আজরাইল(আঃ) আর কখনো কারো জান কবজের আগে অনুমতি চাইবেন না !

প্রফেসর মাওলানা মো. সালাহউদ্দিন
(খতিব : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ)
প্রত্যেক জীব মরণশীল। সুতরাং হে মুমিন! আপনারা মউতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করুন এবং আল্লাহ্ পাকের কাছে খালেছ তওবা করুন এবং মৃত্যু আগমনের পূর্বে পরকালের জন্য উত্তম পাথেয় সংগ্রহ করুন। সাবধান! মুসলমান না হয়ে আপনারা মৃত্যুবরণ করবেন না। রাসূল (সা.)-এর ওফাতের অবস্থা সম্পর্কে আলী ইবনে হুসাইন বললেন, যখন রাসূল (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন হজরত জিব্রাইল (আ.) তার খেদমতে এসে আরজ করলেন, হে মুহাম্মদ! আপনার বিশেষ সম্মান ও গুণ মর্যাদার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপনার খেদমতে পাঠিয়ে আপনার হাল-হকিকত জানতে চেয়েছেন। অথচ তিনি আপনার হাল-হকিকত সম্পর্কে আপনার চেয়ে অধিক অবগত আছেন। তা সত্ত্বেও তিনি জানতে চেয়েছেন আপনি এখন নিজ সম্পর্কে কি রকম অনুভব করছেন? উত্তরে হজরত রাসূল (সা.) বলেন, হে জিব্রাঈল! আমি নিজকে ভারাক্রান্ত পাচ্ছি এবং নিজের মধ্যে অস্থিরতা অনুভব করছি।

অতঃপর সেদিন হজরত জিব্রাঈল (আ.) চলে গেলেন। আবার দ্বিতীয় দিন এসে তিনি বিগত দিনের মতো জিজ্ঞাসা করলেন, আর নবী (সা.)-ও প্রথম দিনের মতো একই উত্তর দিলেন। পুনরায় জিব্রাইল (আ.) তৃতীয় দিন আগমন করলেন এবং তিনি নবী করিম (সা.)-কে প্রথম দিনের মতো জিজ্ঞাসা করলেন এবং নবী করিম (সা.)-ও প্রথম দিনের মতো একই উত্তর দিলেন। এ তৃতীয় দিনে ছিলেন হজরত জিব্রাইলের সঙ্গে ইসমাইল নামের আরেকজন ফেরেশতা। তিনি ছিলেন এক লাখ ফেরেশতার সর্দার। সেই ফেরেশতাও হজরত নবী করিম (সা.)-এর কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। তিনি জিব্রাঈল (আ.)-কে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর হজরত জিব্রাইল (আ.) বলেন, এই যে মালাকুল মউত (আজরাইল আ.) তিনিও আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছেন।

তিনি আপনার আগে কোনো মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য কখনো অনুমতি চাননি এবং আপনার পরও কখনো কোনো মানুষের কাছে যেতে অনুমতি চাইবেন না। অতএব আপনি তাকে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করুন। তখন হজরত নবী করিম (সা.) তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। তখন তিনি (হজরত আজরাইল আ.) নবী করিম (সা.)-কে সালাম করলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপনার খেদমতে পাঠিয়েছেন। আপনি যদি আমাকে আপনার রূহ কবজ করার অনুমতি বা নির্দেশ দেন তাহলে আমি আপনার রূহ কবজ করব। আর যদি আপনি আমাকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন তাহলে আমি আপনাকে ছেড়ে দেব। তখন রাসূল (সা.) বলেন, হে মালাকুল মউত আপনি কি এমনটা করতে পারেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি এভাবেই নির্দেশিত হয়েছি, আর আপনার নির্দেশ মান্য করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। এ সময় রাসূল (সা.) জিব্রাইল (আ.)-এর দিকে তাকালেন। তখন জিব্রাঈল (আ.) বলেন, হে মুহাম্মদ আল্লাহ তায়ালা আপনার সাক্ষাৎ লাভের জন্য একান্তভাবে উদগ্রীব। তাৎক্ষণিক রাসূল (সা.) মালাকুল মউতকে বলেন, যে জন্য আপনি আদিষ্ট হয়েছেন তা করুন। অতঃপর তিনি তার রূহ মুবারক কবজ করে নিলেন। তখন রাসূল (সা.) ইন্তেকাল করলেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুসলমান হয়ে মৃত্যুবরণ করার তওফিক দিন। (আমীন)

Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post