মাযার জিয়ারত শিরক নয়,শরীয়ত সম্মত


সাধারণত নবী-রাসুল ও আল্লাহর ওলীদের সমাধি স্থানকে আমরা মাজার শরীফ ও রওজা শরীফ
বলে থাকি।মাজার ফার্সী ভাষার শব্দ, যার অর্থ হলো দরগাহ।
আর রওজা শব্দের অর্থ হলো বেহেশতের বাগান।

হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন,

‘আল আউলিয়াল্লাহি লা ইয়া মুতু’ অর্থাৎ আল্লাহর ওলীদের মৃত্যু হয় না।’


যাদের মৃত্যু নাই তারা দুনিয়াতেও
জীবিত এবং ইন্তেকালের পরেও জীবিত। নবী- রাসুল এবং তাদের
উত্তরসূরী অর্থাৎ ওয়ারিসগণ এই শ্রেণীর অন্তুর্ভূক্ত। তাই মাজারে আল্লাহর ওলী জাগ্রত অবস্থায় জীবিত আছেন।
তাকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মনে না করে মাজারে কিছু চাইলে তা কোনো দিনও শিরক হবেনা। কেউ যদি কোন বুজুর্গকে আল্লাহর
সম পর্যায় ভাবে তবে নিঃসন্দেহে তা শিরক।

কিন্তু উসিলা করে চাইলে তা শিরক হবে না। মাজারে চাওয়ার অর্থ হলো, আল্লাহর ওলীকে উসিলা হিসেবে মান্য করা,সর্বময় ক্ষমতার
অধিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা নয়।
আল্লাহর ওলীরা মরেন না, তাই তারা সবই শুনতে পান।

যেমন আল্লাহ বলেন,

(ওয়ালা তাকুলু লিমাই ইউক তালু ফি সাবিল্লাহী আমওয়াত বাল আহ ইয়াউ ওয়ালা কিল্লা তাশউরুন (সুরা বাকারা ১৫৪)

অর্থাৎ “আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না।তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না।”
যেমন আউলিয়ার মাযার জিয়ারত করে তা থেকে সাহায্য
প্রার্থনা করা ইসলাম ধর্মে বৈধ কিনা এ প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে আমরা আল্লাহপাক,নবী (আলাইহিস সালাম) ও মুসলিম উম্মাহর উলামায়ে হাক্কানী রাব্বানীবৃন্দের আকিদা-বিশ্বাস
বিবেচনা করবো।কোনো সালাফী, লা মাযহাবী বাতেল ফেরকা ইবনে তাইমিয়া, নাসিরউদ্দিন আলবানী,
জাকির নায়েক,দেওবন্দী ওহাবীদের কথা মানবনা।
তাদের কথা আমাদের কাছে এক পয়সার মূল্য নেই।
নবী (আলাইহিস সালাম) এর আকিদা- বিশ্বাস

হযরত বুরায়দা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,  হযরত রাসূলে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান,

“ইতিপূবে আমি তোমাদেরকে কবর যেয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম,এখন থেকে জেয়ারত করো (মুসলিম শরীফ, মেশকাত ১৫৪ পৃষ্ঠা)।

মোহাম্মদ বিন নোমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূলে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ ফরমান,

“যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার তার পিতা-মাতার বা তাঁদের যে কোনো একজনের কবর জিয়ারত করে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং পুণ্যবানদের একজন হিসেবে তার নাম লেখা হবে” (মেশকাত, ১৫৪ পৃষ্ঠা)।

এ সকল হাদীস থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে প্রিয় নবী (আলাইহিস সালাম) এর কাছে কবর জিয়ারত বৈধ।উপরস্তু, যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার তাঁর পিতামাতার কবর
যেয়ারত করেন,তাঁর গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)
এর আকিদা-বিশ্বাস আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহঃ) ইমাম
শাফেয়ী (রহঃ) এর কথা উদ্ধৃত করেন,যিনি বলেন,

“আমি ইমাম আবু হানিফা (রহ:)-এর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর মাযার জিয়ারত করি।আমার যখন কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তখন আমি দু’রাকাত নামায আদায় করে ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) এর মাযার জিয়ারত করি এবং তৎক্ষণাৎ আমার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়” (রাদ্দুল মোহ্তার, ১ম খন্ড, ৩৮ পৃষ্ঠা)।

শায়খ আব্দুল হক দেহেলভীও লিখেন:

“ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেছেন যে হযরত মূসা কাযেমের (রহঃ) মাযারে তাৎক্ষণিক দোয়া কবুল হয়” (আশ্আতুল লোমআত, ১ম খন্ড,৭১৫ পৃষ্ঠা) ।


এ সকল লেখনীতে প্রতিভাত হয় যে, ইমাম শাফেয়ীর (রহঃ) এ মর্মে আকিদা-বিশ্বাস ছিল আউলিয়ায়ে কেরামের মাযার জিয়ারত করে তা থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ এবং মাযারস্থ আউলিয়ায়ে কেরাম
বিপদ-আপদ দূর করার
একটি মাধ্যম, এ বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করাও বৈধ।
ইমাম সাবী মালেকী (রহঃ) এর আকিদা-বিশ্বাস

“আল্লাহর নৈকট্যের জন্যে ওসীলা অন্বেষণ করো”- আল-কুরআন (৫:৩৫)


-এর এই আয়াতটি ব্যাখ্যাকালে ইমাম সাবী (রহঃ)
বলেন আল্লাহ ভিন্ন অপর কারো এবাদত-বন্দেগী করছেন মনে করে আউলিয়ায়ে কেরামের মাযার জিয়ারতকারী মুসলমানদেরকে কাফের আখ্যা দেয়া স্পষ্ট গোমরাহী।তাঁদের মাযার জিয়ারত করা আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো এবাদত- বন্দেগী নয়, এটা হলো 

"আল্লাহ যাঁদেরকে ভালবাসেন তাঁদেরকে ভালবাসার নিদর্শন” (তাফসীরে সাবী, ১ম খন্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠা)।

যেমন বাতেল ফেরকারা এই হাদীসকে মাযার উদ্দেশ্যে সফর করা যাবেনা বলে চালিয়ে দেয়। অথচ, বুখারী শরীফের এই হাদিসে ‘তিন মসজিদ ব্যতিত অন্য কোন
মসজিদে সফর করা যাবে না বলা হয়েছে।’ এ হাদিস শরীফটি এক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়।এটা শুধু নামাজ
আদায়ের ক্ষেত্রে সফর। উক্ত হাদিসের অনুকূলে মুসনাদে আহমদে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি সমর্থন
হিসেবে পাওয়া যায়,

অর্থাৎ হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন,

মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা ও মসজিদে নববী ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করা কোন মুসাফিরের জন্য সঙ্গত নয়।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১১৬০৯)।

অতএব প্রমানিত হলো যে, নামাজ
আদায়ের ক্ষেত্রে তিন মসজিদ ব্যতিত সফর করা নিষেধ।
সুতরাং যারা মাযার জিয়ারত কে পূজা বলে তাদের ফতোয়া আমাদের কাছে এক পয়সার মূল্য নেই,কারণ এসব কথা কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াসের
কোনো জায়গায় দেখাতে পারবেনা ইনশাআল্লাহুতালা।
বাতেল ফেরকাদের কাছে প্রশ্ন:

১.আল্লাহপাক কোথায় বলছেন কী মাযার জিয়ারত করলেই পূজা হয়?

২.নবীপাক আলাইহিস সালাম কী কোনো হাদীসে বলেছেন মাযার জিয়ারত করলে পূজা হবে?

৩.চার মাযহাবে চার ইমাম কী বলছেন মাজার জিয়ারত করলে পূজা হবে?

৪.হক্বানী রাব্বানী আউলিয়ায়ে কেরাম এবং উলামায়ে কেরাম বলছেন কী মাযার জিয়ারত করলে পূজা হবে?


একটিও দেখাতে পারবেনা। পারবে শুধু নজদী, ওহাবী, সালাফী, দেওবন্দী,লা মাযহাবীদের কুফরী কিতাব থেকে। আল্লাহপাক যেন সব বাতেল ফেরকাদের সঠিক বুঝ দান করুক আমীন|


Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post