প্রশ্নঃপহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ, বাঙালিদের সার্বজনীন উৎসব। পহেলা বৈশাখ পালন করা ইসলাম সমর্থন করে কিনা ?
উত্তরঃ মধ্যযুগে ইউরোপীয় দেশগুলোতে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালিত হত ২৫শে মার্চ, এবং তা পালনের উপলক্ষ ছিল এই যে, ঐ দিন খ্রীস্টীয় মতবাদ অনুযায়ী মাতা মেরীর নিকট ঐশী বাণী প্রেরিত হয় এই মর্মে যে, মেরী ঈশ্বরের পুত্রের জন্ম দিতে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারের সূচনার পর রোমক ক্যাথলিক দেশগুলো পয়লা জানুয়ারী নববর্ষ উদযাপন করা আরম্ভ করে।
ঐতিহ্যগতভাবে এই দিনটি একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই পালিত হত। ইহুদীদের নববর্ষ ‘রোশ হাশানাহ’ ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ইহুদীদের ধর্মীয় পবিত্র দিন সাবাত হিসেবে পালিত হয়। এমনিভাবে প্রায় সকল জাতির উৎসব-উপলক্ষের মাঝেই ধর্মীয় চিন্তা-ধারা খুঁজে পাওয়া যাবে। আর এজন্যই ইসলাম ধর্মে নবী মুহাম্মাদ (সা.) পরিষ্কারভাবে মুসলিমদের উৎসবকে নির্ধারণ করেছেন, ফলে অন্যদের উৎসব মুসলিমদের সংস্কৃতিতে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঈদ রয়েছে, আর এটা আমাদের ঈদ।” [বুখারী, মুসলিম]
বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিতইমাম ইবনে তাইমিয়াএ সম্পর্কে বলেন:
“উৎসব-অনুষ্ঠান ধর্মীয় বিধান, সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেরই একটি অংশ, যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
‘তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’ [আল-মায়িদাহ :৪৮]
প্রতিটি জাতির জন্য আমি ধর্মীয় উপলক্ষ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যা তাদেরকে পালন করতে হয়। [আল-হাজ্জ্ব:৬৭]
ইসলামের দৃষ্টিতে নওরোজ বা যে কোন ধরনের নববর্ষ পালন করা হারাম ও বিদ্য়াত। পহেলা বৈশাখ পালনের ইতিহাস ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটা পালন মুসলমানদের কাজ নয়। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ পালনের সংস্কৃতি হিন্দুদের থেকে এসেছে। তবে বাংলা সন বা পহেলা বৈশাখ বাঙালি দ্বারা প্রবর্তিত নয়। বাদশাহ আকবর ফসলী সন হিসেবে এর প্রবর্তন করে। আর বাদশাহ আকবর ছিল মঙ্গলীয় এবং ফারসী ভাষী। তাহলে এটা কি করে বাঙালি সংস্কৃতি হতে পারে?
যুক্তিবাদীর কমেন্টঃ বাঙলা নববর্ষ একটি সার্বজনীন উৎসব। এটি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সবাই পালন করে আসছে বিগত চারশ বছর ধরে। এই উৎসবকে কেউ নিজেদের ধর্মীয় উৎসব বলে এখনো দাবী করে নাই। তাই এটি কোনো বিজাতীয় উৎসব নয়।
পৃথিবীর প্রতিটি দেশের প্রতিটি জাতির ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি আছে। এই যেমন মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে তাদের উৎসবের সময় সঙ্খ বাজায় অথচ এটিই আবার আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পুজোর একটি অংশ। তার মানে বোঝা যাচ্ছে, যেটি আরবের সংস্কৃতির অংশ সেটি আমাদের নাও হতে পারে। আবার আমরা ভারতীয় উপমহাদেশে বিয়ের সময় ঘটা করে গায়ে হলুদ কিংবা বৌভাত পালন করা হয় কিন্তু আরব কিংবা প্রাশ্চাত্য দেশগুলোতে এগুলোর ব্যবহারই নেই। ব্যাপারটা আসলে এরকমই একটি জাতির নির্দিষ্ট উৎসব অন্য জাতির লোকেরা নাও পালন করতে পারে। তাই এখানে বাঙলা নববর্ষ কোনো ভাবেই বিজাতীয় বা বিধর্মীয় সংস্কৃতি হচ্ছে না।
যুক্তির দিক দিয়ে মেনে নিলাম এটি কোন ধর্মীয় সংস্কৃতি না শুধু মাত্র বাঙালি জাতির সংস্কৃতি এবং এটি একটি সার্বজনীন উত্সব (পহেলা বৈশাখের উত্পত্তি নিয়ে ১০ টার ও বেশি মতামত পেয়েছি যার কারনে কোনটাই বিশ্বাস করতে পারছিনা)
যেহেতু এটি পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি সেহেতু দেখা যাক পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি উত্সব ইসলাম কতটুকু এবং কখন সমর্থক করে ?
যেই (পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি) উত্সব ইসলামি শরিয়ত সমর্থিত সেটা পালন করা যাবে
এবং যে সংস্কৃতি শরিয়ত বিরুধী তা পালন করা যাবেনা কারন ইসলামি শরিয়ত মানা টা বড় কথা সংস্কৃতি পালন করাটা নয়
যেমনঃআপনার পূর্বপুরুষরা প্রত্যেক বছর একবার গরীব দুঃখি দের খাওয়াতো,
অথবা আপনার পূর্বপুরুষরা প্রত্যেক বছর গরিব দুঃখি দের লাভের কিছু অংশ দিয়ে দিত
এগুলো আপনি করতে পারেন কারন এগুলো সমর্থিত
পহেলা বৈশাখ কেন ইসলামি শরিয়ত সম্মত (পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি) উত্সব নয় ?
উদ্দাম নৃত্য, যাত্রাপালা, শাঁখা-সিঁদুরের রংয়ে (সাদা ও লাল) পোশাক, বিয়ের মিথ্যা সাজে দম্পতি সাজিয়ে বর-কনের শোভাযাত্রা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা, দৃষ্টিকটূ আচরণ, মূর্তির (কুমির, পেঁচা, বাঘ ইত্যাদির মুখোশ) প্রদর্শনী, উল্কি আঁকাঁ, মঙ্গল শোভাযাত্রা ইত্যাদি কি বাংলার আপামর জনতার সংস্কৃতি? এই ধার করা সংস্কৃতিচর্চা করতে গিয়ে শুধু ঢাবি ক্যাম্পাসে গত বছর সাংবাদিকসহ ১৬ জন তরুণী লাঞ্ছিত হয়েছে, যা পত্রিকায় (নয়া দিগন্ত, ১৬.৪.১১) প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ সব ঘটনা সংকলন সম্ভব নয় ।
এদিনে তারা(ছেলে মেয়ের বিবেধ ভুলে) নৈতিকতার সকল বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে অশ্লীল কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়, আর এই কর্মকান্ডের অবধারিত রূপ হচ্ছে মদ্যপান ও ব্যভিচার।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে নারী পুরুষের সম্মিলিত নাচ-গান, রং ছিটানো
গান-বাজনা করে, রেলী করে, জীব-জানোয়ারের মুখোশ পরে, মিছিল করে, শরীরের নানা অঙ্গ-প্রতঙ্গে উল্কি আঁকে, ডুগডুগি বাজিয়ে নেচে নেচে হৈহুল্লোড় করে,পুরুষরা ধুতি ও কোণাকাটা পাঞ্জাবী যা হিন্দুদের জাতীয় পোশাক তা পরে, মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়িসহ হাতে রাখি বাঁধে, শাঁখা পরে, কপালে লাল টিপ ও চন্দন এবং সিথিতে সিঁদুর দেয়, বেপর্দা, বেহায়া হয়- যা সম্মমানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী।
যে সংস্কৃতির মধ্যে এতগুলো ইসলাম বিরুধী কর্ম
সেই সংস্কৃতি পালন করা কখনো একজন মুসলমানের পক্ষে সম্ভব না
হে আল্লাহ আপনি আমাদের এই রকম একটা গুনাহ ( পাপ) থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন আমিন
শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন