--------------------------------------------------------
১) মহান আল্লাহর উপর শিরক মুক্ত নিখাদ পরিপূর্ণ ঈমান।
কেননা বান্দা শিরক করলে শয়তান সবচেয়ে বেশী খুশি হয়।
চাই তা বড় শির্ক হোক বা ছোট শিরক।
কারণ এতে বান্দার ঈমান নষ্ট হয় তার জন্য জান্নাতের পথ বন্ধ হয়।
২) একনিষ্ঠ ভাবে তাঁর ইবাদত-দাসত্ব করা। রিয়া বা লোক দেখানোর আমল পরিত্যাগ করা।
৩) সার্বিক ক্ষেত্রে নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা।
পরিপূর্ণরূপে তাঁর অনুসরণ করা। সবধরনের বিদআত থেকে দূরে থাকা। কেননা সাধারণ পাপ কর্মে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে বিদআতে লিপ্ত হওয়াতে শয়তান বেশী খুশি হয়। কারণ সাধারণ পাপ কর্ম থেকে তওবা করা হয় কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করা হয়না। তাছাড়া বিদআত পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা‘আলা তার তওবা কবুল করেন না।
(ছহীহ্ তারগীব তারহীব)
৪) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত যথাসময়ে আদায় করা। বিনয়- নম্রতার সাথে ছালাত সমূহ আদায়
করা এবং মসজিদে গিয়ে মুসলমানদের জামাতে শরীক হওয়া।
৫) ফরয সমাপনান্তে সুন্নত-নফল ছালাত সমূহ অধিকহারে আদায়ের চেষ্টা করা।
৬) অধিক হারে নফল ছিয়াম আদায় করার চেষ্টা করা। কেননা ছিয়াম শয়তানী প্রবৃত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
৭) সবধরনের নফল ইবাদত বেশী বেশী আদায় করা।
৮) গোপনে-প্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বলেন, “তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর।” (সহীহ মুসলিম)
৯) অধিকহারে আল্লাহর জিকির করা। কেননা শয়তান বিতাড়িত করার সর্বোত্তম মাধ্যম হল আল্লাহর জিকির।
১০) আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং আত্ম সমালোচনা করা।
১১) আল্লাহর কাছে দু‘আ করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করা।
১২) আল্লাহর দরবারে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করা।
যে সকল স্থানে শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করতে হয় তা হলঃ
ছালাতে,
কুরআন তেলাওয়াত করার সময়,
রেগে গেলে,
সকাল-সন্ধ্যায়,
নিজগৃহে প্রবেশ করার সময়,
দ্বীনের মৌলিক কোন বিষয়ে সন্দেহ হলে,
স্ত্রী সহবাস করার আগে,
ঘুমানের সময়,
কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে।
১৩) কুরআন তেলাওয়াত করা। বিশেষ করে সূরা বাক্বারা পাঠ করা।
১৪) ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী (সূরা বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত) পাঠ করা।
১৫) বেশী ক্রোধান্বিত হলে ওযু করে নেয়া।
কেননা তা একটি শয়তানী প্রবণতা।
শয়তান আগুন থকে সৃষ্টি হয়েছে। আর পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে
বেঁচে থাকার তাওফিক দিন । আমীন।