জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর

জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে সুরা বাকারায় বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

তোমরা জাহান্নামের ঐ আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর। যা অবিশ্বাসী কাফেরদের জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। (বাকারা- ২৪)
পৃথিবীতে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা নিজেরা চেষ্টা করে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচার জন্যে। নিজেরা নামাজ কালাম আদায় করে, যাকাতও দান করে, হজ্জও করে কিন্তু নিজের অধিনস্ত ছেলে-মেয়েকে মোটেও তাগিদ দেয় না নামাজ-কালামের জন্যে। শুধু তাই নয়- নিজে মুখে দাড়ি রেখে, মাথায় টুপি দিয়ে নিজের বেপর্দা সুন্দরী মেয়েকে সাথে নিয়ে শপিং করতে বের হয়।  মেয়েকে পর্দা করতে বলে না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা তাহরীমে বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

হে ঈমানদারগণ! নিজেকে এবং নিজের পরিবারবর্গকে সে আগুন হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রুঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে। যারা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না। যে আদেশ তাদেরকে দেয়া হোক না কেনো, তা ঠিক ঠিকভাবে পালন করে। (সূরা তাহ্‌রীম)
এই আয়াতের বক্তব্য সম্পর্কে মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগে, জাহান্নামের আগুনে পাথর পুড়ানো হবে কেন? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, এক  শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর দাসত্ব বাদ দিয়ে বিভিন্ন বস্তুর দাসত্ব বা পূজা করে। মাটির তৈরী, পাথরের তৈরী মূর্তি বানিয়ে তার কাছে নিজের আশা- আকাংখা, কামনা বাসনা জানায়, তাদের কাছে বিপদ- আপদ থেকে মুক্তি চায়। এই  শ্রেণীর মানুষগুলোর ধারণা পরকালে এই মূর্তি তাদের জন্যে সুপারিশ করে তাদের দোযখ থেকে বাঁচাবে। মহান আল্লাহ ওদের সাথে সাথে ওদের মূর্তিগুলোকেও জাহান্নামে পাঠিয়ে ওদেরকে দেখাবেন। দেখো, তোমরা যাদের দাসত্ব করতে তারা নিজেরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারেনি সুতারাং তোমাদেরকে কি করে রক্ষা করবে?
তাছাড়া আগুনের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ করলে সে পাথর পুড়ে লাল হয়ে অধিক তাপ বিকিরণ করে, আগুনের উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। মূর্তিপুজকগণ যাতে বেশী উত্তাপে অধিক আযাব ভোগ করতে পারে, সে কারণেও আগুনে পাথর নিক্ষেপ করা হতে পারে। প্রকৃত সত্য যে কি তা আল্লহই অবগত আছেন। সেদিন আল্লাহ রব্বুল আলামীন ফেরেশ্‌তাদের নির্দেশ দেবেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ধরো এবং গলায় ফাঁস পরিয়ে দাও তারপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, আর সত্তর হাত দীর্ঘ শিকল দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে দাও। (আল- হাক্কাহ্‌-৩০-৩২)
পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

(অপরাধীদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে) চলো, সে ছায়ার দিকে যা তিনটি শাখা বিশিষ্ট।  যেখানে না (শীতল) ছায়া আছে আর না আগুনের  লেলিহান শিখা হতে রক্ষাকারী কোন বস্তু । সে আগুন প্রসাদের ন্যায় বিরাট স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। তা এমনভাবে লাফাতে থাকবে, দেখলে মনে হবে যেন হলুদ বর্ণের উট। (মুরসালাত-  ৩০-৩৩)

পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনের ৭১-৭২ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যখন তাদের গলায় শিকল ও জিঞ্জির লাগানো হবে, তখন তা ধরে টগবগ করে ফুটন্ত পানির দিকে টানা হবে এবং পরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা মুমিন)
পবিত্র কোরআনের সূরা সা‘দে উল্লেখ করা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

আর খোদাদ্রোহী মানুষদের নিকৃষ্ট পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে তারা (অনন্তকাল) জ্বলবে। এটা অত্যন্ত খারাপ স্থান, প্রকৃত পক্ষে এ স্থান তাদের জন্যেই । অতএব সেখানে তারা স্বাদ গ্রহণ করবে টগবগে ফুটন্ত পানি, পঁূজ, রক্ত, এবং এ ধরণের আরো অনেক কষ্টের। (সূরা সাদ- ৫৫- ৫৮)
মহান আল্লাহর কোরআনে সূরা হজ্জে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জাহান্নামীদের মাথার ওপরে প্রচন্ড গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তাদের পেটের মধ্যে অবস্থিত সকল বস্তু ও চামড়া মুহূর্তের মধ্যে গলে যাবে এবং তাদের জন্য লোহার ডান্ডাসমূহ থাকবে। যখনই তারা শ্বাসরোধক অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের হবার চেষ্টা করবে তখনই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে এবং বলা হবে দহনের শাস্তি ভোগ করতে থাক। (হজ্জ-১৯-২২)
এই ধরনের কঠিন আযাব থেকে কোন অবাধ্য পাপীগণ রেহায় পাবে না। সবাইকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতেই হবে। শুধু ব্যতিক্রম হবে বিশ্বনবীর চাচা আবু তালিবের ক্ষেত্রে। কারণ তিনি বিভিন্ন সময়ে বিশ্বনবীকে সাহায্য সহযোগিতা দান করেছেন। ইসলামের সাথে তিনি যেমন শত্রুতা করেননি তেমনি ইসলাম গ্রহণও করেননি। বিশ্বনবী বলেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে সব চেয়ে অল্প শাস্তি হবে আবু তালিবের, তার পায়ে শুধু জাহান্নামের তৈরী এক জোড়া জুতো পরিয়ে দেয়া হবে। এতেই তার মাথার মগজ গলে নাক- কান দিয়ে চুইয়ে পড়বে।’ (বোখারী )
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই (জাহান্নামে) কাফেরদের চামড়া বিয়াল্লিশ গজ পুরু হবে এবং এক একটি দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমান হবে। জাহান্নামে একজন জাহান্নামী যে স্থান জুড়ে অবস্থান করবে তা মক্কা হতে মদীনার দুরত্বের সমান। (তিরমিজী)
জাহান্নামের শাস্তির যে ধরণ, তা পুরোপুরি অনুভব করতে হলে দৈহিক আকার আকৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজন, এটা স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধিরও দাবী। আকার আকৃতি যতো বড়ো হয় শাস্তির তীব্রতাও বেশী অনুভূত হয়। আল্লাহ পাপীদেরকে আকার আকৃতি বৃদ্ধি করে দিবেন, যেনো আল্লাহর শাস্তি পুরোপুরি অনুভব করতে পারে। হাদীসে তুলনা করার জন্য কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে যেমন বিয়াল্লিশ গজ, ওহুদ পাহাড়, ইত্যাদি। কারণ কোরআন ও হাদীসে আখিরাতের নিয়ামত ও আযাবের বর্ণনা পৃথিবীর বিভিন্ন বস্তু দ্বারা দৃষ্টান্ত দেয়া হযেছে। যদিও পরকালের কোন বস্তুর তুলনাই পৃথিবীতে হতে পারেনা। কারণ পৃথিবী ও আখিরাতের বস্তু এক নয়, তাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন। তবুও তুলনা না করে উপায় নেই।
কেননা যে ব্যক্তি কোন দিন জিরাফ দেখেনি তাকে জিরাফ সম্বন্ধে বুঝাতে হলে বলতে হবে যে জিরাফ ঘোড়ার মতই তবে গলাটা অনেক লম্বা। যদিও জিরাফ এবং ঘোড়া এক নয় তবু দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে ধারণাটা কাছাকাছি নেবার জন্য। তেমনিভাবেই পরকালের সমস্ত দৃষ্টান্ত দুনিয়ার সাথে তুলনা করে দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

যখন তাদের দেহের চামড়া আগুনে পুড়ে গলে যাবে, তখন (সাথে সাথে) সেখানে অন্য চামড়া সৃষ্টি করে দেবো; যেনো তারা আজাবের স্বাদ পুরাপুরি গ্রহণ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ বড়োই শক্তিশালী এবং নিজের ফয়সালা সমূহ কার্যকরী করার কৌশল খুব ভালো করেই জানেন। (সুরা নিসা- ৫৬)
চামড়া যে পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং পুড়ে যাচ্ছে, পুনরায় আবার তা তৈরী হচ্ছে, এ অনুভূতি কখনো জাহান্নামীদের থাকবেনা। জাহান্নামীদের প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশ’বার চামড়া পরিবর্তন করা হবে কিন্তু জাহান্নামীগণ মনে করবে যে, তার সে পুরানো চামড়াই শরীরে আছে এবং তা অবিরাম পুড়ে চলছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা গরম বাস্প, টগবগ করে ফুটন্ত পানি এবং কালো ধূয়াঁর ছায়ার মধ্যে থাকবে। তা (কখনো) না ঠান্ডা হবে, না শান্তিদায়ক। (ওয়াকিয়া ৪২-৪৪)
জাহান্নামীগণ জাহান্নামে কালো আগুনের মধ্যে অবস্থান করবে, একথা আল্লাহর রাসূলও বলেছেন, ‘আগুনকে এক হাজার বছর তাপ দেয়া হলো তখন আগুন লালবর্ণ ধারণ করলো। আবার এক হাজার বছর তাপ দেয়া হলো তখন আগুন কালোবর্ণ ধারণ করলো। সে জন্যই জাহান্নামের আগুন কালো এবং অন্ধকারময়। (তিরমিজি)

জাহান্নামীগণ একদল আরেক দলকে অভিশাপ দেবে

যারা জাহান্নামে যাবে তারা একদল আরেক দলকে দোষ দেবে যে, আমরা তোমাদের কারণেই আজ এই কঠিন শাস্তির স্থান জাহান্নামে এসেছি। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বলছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

প্রত্যেকটি দল যখনই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, নিজের সঙ্গের দলটির উপর অভিশাপ দিতে দিতে অগ্রসর হবে।  শেষ পর্যন্ত সকলেই যখন  সেখানে সমবেত হবে, তখন প্রত্যেক পরবর্তী লোক পূর্ববর্তী লোকদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এ লোকেরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। এখন তাদেরকে আগুনে (আমাদের চেয়ে) দ্বিগুন শাস্তি দাও। আল্লাহ বলবেন, সকলের জন্যই দ্বিগুন আজাব কিন্তু তোমরা তা বুঝবে না। (সূরা আ‘রাফ- ৩৮)
সকলের জন্যই দ্বিগুন আজাব এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে, অপরাধীগণ সর্বদাই নিজে অপকর্ম করে এবং অন্যদের করতে উৎসাহ দেয়। যেহেতু প্রতিটি অপকর্মই বাহ্যিক চাকচিক্যময় তাই তার উৎসাহে বিপূল সংখ্যক লোক সাড়া দেয়।  আবার তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে আরেকদল অপরাধ প্রবণ হয়ে যায়। এমনি করে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অপরাধীদের দল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সত্যি কথা বলতে কি, প্রত্যেকটি দলই পূর্ববর্তী দলকে অনুসরণ করেই অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে এবং অপরাধী হিসাবে চিহিুত হয়। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক দলকেই দ্বিগুণ শাস্তি দেবেন। কারণ একদিকে যেমন তারা পূর্ববর্তী দলের অনুসারী অপরদিকে তারা তাদের পরবর্তী দলের পথ প্রদর্শক। এ কথা গুলোই আল্লাহ পবিত্র কালামে অন্যভাবে বলেছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

আল্লাহ ঈমানদারদের বন্ধু। তিনি অন্ধকার হতে আলোর দিকে লোকদেরকে পথ দেখান এবং কাফেরদের বন্ধু খোদাদ্রোহী লোকজন তারা লোকদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে পথ দেখায়। (বাকারা- ২৫৭)
পৃথিবীতে নানা ধরনের দল রয়েছে। এসব দলের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দল আল্লাহর বিধানের ভিত্তিতে তাদের কর্মীদের পরিচালিত করে থাকে। আর অধিকাংশ দলই মানুষের বানানো আদর্শের ভিত্তিতে কর্মীদের পরিচালিত করে। এসব বাতিল দলের নেতা- কর্মীরা যখন জাহান্নামে যাবে তখন তারা তাদের নেতাদের দোষ দেবে।

কর্মীরা নেতাদের প্রতি অভিশাপ দেবে

এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(যখন জাহান্নামীদেরকে আগুনে পুড়ানো হবে) তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের সরদার ও নেতাদের আনুগত্য করেছি, তারা আমাদেরকে সঠিক সরল পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। হে রব ! এ লোকদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের ওপর কঠিন অভিশাপ বর্ষন করো। (আহযাব-  ৬৭- ৬৮)

জাহান্নামীগণ জাহান্নামে জ্বলতে জ্বলতে অসহ্য হয়ে যাবে। তখন চীৎকার করে বলতে থাকবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হে পরোয়ারদেগার! সেই জ্বিন ও মানুষদেরকে আমাদের সামনে এনে দাও, যারা আমাদের গোমরাহ করছিলো। আমরা তাদেরকে আমাদের পায়ের তলায় রেখে দলিত মথিত করবো, যেনো তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। (হামীম সিজদাহ্‌-২৯)
জাহান্নামীদের অনুভূতি তীব্র হবে। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং সেদিন বুঝবে যে অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করা কতো বড়ো ভ্রান্তনীতি ছিলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আর এই বিভ্রান্ত লোকেরা (নিজেদের  নেতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলবে, আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলাম, যখন তোমাদেরকে রাব্বুল আলামীনের মর্যাদা দিচ্ছিলাম। (শুয়ারা-  ৯৭- ৯৮)

জাহান্নামীদের নিকৃষ্ট খাদ্য

জাহান্নামীদের খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যাক্কুম গাছ জাহান্নামীদের খাদ্য হবে; তিলের তেলচিটের মতো। পেটে এমনভাবে উথলিয়ে উঠবে যেমন টগবগ করে পানি উথলিয়ে উঠে। (দোখান-  ৪৩-৪৬)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অতঃপর পান করার জন্য তাদের ফুটন্ত পানি দেয়া হবে। (ছাফ্‌ফাত- ৬৭)
সূরা-গাশিয়ায় বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
টগবগ করে ফুটন্ত কূপের পানি তাদেরকে পান করানো হবে। কাঁটাযুক্ত শুস্ক ঘাস ছাড়া অন্য কোন খাদ্য তাদের জন্য থাকবেনা। তা দেহের পুষ্টি সাধনও করবেনা এবং ক্ষুধার উপশমও হবে না । (গাশিয়া-  ৫-৭)
আল্লাহর আদালতের বাম পাশে যারা অবস্থান করবে তারা বড়ই হতভাগ্য এবং এরাই হবে জাহান্নামের জ্বালানি। পৃথিবীতে এরা ইসলামী বিধি বিধানের তোয়াক্কা করেনি। এরা ধারণা করতো মৃত্যুর পরে কোন জীবন নেই। মিথ্যায় ভরপুর ছিল এদের জীবন। অসৎ কাজই ছিল এদের পেশা। কোরআন-হাদীস সম্পর্কে এরা ছিল উদাসীন। যে কোন পথে যে কোনভাবে এরা টাকা উপার্জন করতো। হারাম-হালাল বলে কোন কথা এদের জীবনে ছিল না। অপরের সম্পদ এরা অন্যায়ভাবে ভোগ  দখল করতো। কোরআন-হাদীস অনুযায়ী যারা জীবন-যাপন করতো, তাদেরকে এরা উপহাস করতো।
এরা পৃথিবীতে নিজের শক্তির মহড়া দিয়ে অন্যায় কাজ করতো। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্বলদের উপর অত্যাচার করতো। নিজেরা ভোগ বিলাসে লিপ্ত থাকলেও অভাবীদের দিকে এদের দৃষ্টি ছিল না। এরা সেদিন কঠোর শাস্তির মধ্যে অবস্থান করবে। তাদেরকে আযাবের পর আযাব দেয়া হবে। মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এরা অবস্থান করবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে। তাদেরকে অচ্ছাদিত করে রাখবে উত্তপ্ত কৃষ্ণবর্ণ ধুম্ররাশি যা কখনো শীতল ও আরামদায়ক হবে না। এরা ওই সমস্ত মানুষ- যারা পৃথিবীর জীবনে ছিল সুখী সচ্ছল। তাদের সুখী সচ্ছল জীবন তাদেরকে লিপ্ত করেছিল পাপ কাজে। সে সব পাপ কাজ তারা করতো জিদ ও অহংকারের সাথে। তারা বলতো, মৃত্যুর পর তো আমরা কংকালে পরিণত হবো। মিশে যাবো মাটির সাথে। তারপর আবার কি করে আমরা জীবিত হবো? আমাদের বাপ-দাদাকেও এভাবে জীবিত করা হবে? হে নবীঁ! তাদেরকে বলে দাও, পরবর্তী এবং পূর্ববতী সকলকেই একদিন উপস্থিত করা হবে। তার জন্য সময় কালও নির্ধারিত হয়ে আছে। হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাবাদীর দল, তোমরা জাহান্নামে যকুম বৃক্ষ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করবে। তা দ্বারাই তোমরা উদরপূর্ণ করবে। তারপর তৃষ্ণার্ত উটের মতো তারা পেট ভরে পান করবে উত্তপ্ত ফুটন্ত পানি? (সূরা ওয়াকিয়া-৪২-৫৫)
জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে রক্ত, পূজ, ক্ষরণ খেতে দেয়া হবে আর দেয়া হবে ‘যকুম’ ফল। এই ফল অত্যন্ত কাঁটা যুক্ত ও বিষাক্ত হবে। তীব্র যন্ত্রণাদায়ক হবে। যকুম খওয়ার সাথে সাথে পেটে ভয়ংকর যন্ত্রণা শুরু হবে। আর্তচিৎকার করতে থাকবে পাপীগণ। যকুম ফলের ক্রিয়ায় তাদের পেটের নাড়িভূড়ি গলে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে- কিন্তু মৃত্যু হবে না।

জাহান্নামীগণ জান্নাতীদের কাছে খাদ্য চাইবে

জাহান্নামীরা কিভাবে জান্নাতীদের কাছ থেকে খাদ্য চাইবে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ শোনাচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জাহান্নামীগণ জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদেরকে সামান্য পানি দাও কিংবা আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন তা হতে কিছু আমাদের দিকে নিক্ষপ করে দাও। জবাবে জান্নাতীগণ বলবে, আল্লাহ তা‘য়ালা এ দুটি বস্তুই কাফেরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (সূরা আ‘রাফ- ৫০)
উপরের আলোচনা হতে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবী যেমন স্থান-কাল ও পাত্রের দ্বারা সীমাবদ্ধ কিন্তু আখিরাত স্থান-কালের সীমাবদ্ধতার উর্দ্ধে। কেননা জান্নাতের পরিধি যেমন বিশাল ঠিক তেমনিভাবে জাহান্নামের পরিধিও বিশাল। তবুও এ দু‘প্রান্ত থেকে একজন অপরজনের অবস্থা অবলোকন করতে পারবে এবং পরস্পর কথাও বলবে, তাতে তাদের দৃষ্টিশক্তি বা কন্ঠস্বরের কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।
জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌঁছেনি? তখন কাফেরগণ বলবে হ্যাঁ, পৌঁছেছিলো কিন্তু আমরা তাদের ঠাট্টা বিদ্রূপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম। তখন আফসোস করবে এবং বলবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধাবন (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না। (মুল্‌ক- ১০)

জাহান্নামীগণ পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে

সূরা আনয়ামে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নাদের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা মনে না করতাম ও ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম! (সূরা আনয়াম- ২৭)
তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করবেন। পবিত্র কোরআন বলছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয় তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হ‘তে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। (সূরা আনয়াম-২৮)
সূরা যুমারে বলা হয়েছে, যে সব লোক কুফুরী করেছিলো তাদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তার (অর্থাৎ  জাহান্নামের) দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হবে এবং তার কর্মচারীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্যে হতে এমন কোন রাসূল কি আসেনি, যে তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াত সমুহ শুনিয়েছে এবং তোমাদেরকে এ বলে ভয় প্রদর্শন করেছে যে, এ দিনটি অবশ্যই একদিন তোমাদেরকে দেখতে হবে? তারা বলবে- হ্যাঁ, এসেছিলো !
মানুষ যখন হতাশ ও পেরেশান হয়ে যায় তখনই তার মুখ দিয়ে হতাশাব্যঞ্জক কথা বের হয়। উপরোক্ত দৃষ্টান্তটি তার নমুনা। তাদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ শোনাচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা বলবে হে আমাদের রব! তুমি নিশ্চয়ই আমাদের দু‘বার মৃত্যু ও দু‘বার জীবন দান করেছো। এখন আমরা আমাদের অপরাধ সমুহ স্বীকার করে নিচ্ছি। এখন এখান (জাহান্নাম) থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি? (সূরা আল্‌-মুমিন- ১১)
দু‘বার মৃত্যু এবং দু‘বার জীবনদান অর্থ মানুষ অস্তিত্বহীন ছিলো অর্থাৎ মৃত ছিলো আল্লাহ জীবন দান করলেন আবার মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় কিয়ামতের দিন জীবিত করে উঠাবেন। এ কথা কয়টি স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরা বাকারায় স্পস্ট করে বলেছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন করে কুফুরী করতে পারো! অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন- মৃত, তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় জীবন দান করে উঠাবেন। তারপর তার দিকেই  তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। (বাকারা-২৮)
অপরাধীগণ প্রথম তিনটি অবস্থা অবিশ্বাস করতো না, কেননা এ তিনটি অবস্থা তাদের চোখের সামনেই ঘটতো। কিন্তু শেষাবস্থা তারা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি বলে উপহাস করে উড়িয়ে দিতো। কেননা শেষ অবস্থার খবর একমাত্র নবী রাসূলগণই দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন কার্যত যখন এ অবস্থা ঘটে যাবে তখন তারা স্বীকার করবে এবং কাকুতি মিনতি করবে পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসার জন্য । সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে (জাহান্নামে) তারা চীৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান হতে বের করে নাও যেনো আমরা নেক আমল করতে পারি। সে আমল থেকে ভিন্নতর যা আমরা পূর্বে করছিলাম। (সূরা ফাতির- ৩৭)
অতঃপর তাদেরকে প্রতিউত্তরে বলা হবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি, যে শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের নিকট সতর্ককারীও এসেছিলো । এখন (আযাবের) স্বাদ গ্রহণ করো। এখানে জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির- ৩৭)

সমস্ত কিছুর বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে

মুক্তি চাইবে
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেদিন অপরাধীগণ চাইবে তার সন্তান, স্ত্রী, ভাই, এবং সাহায্যকারী নিকটবর্তী পরিবার, এমনকি দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও নিজেকে আজাব হতে বাঁচিয়ে নিতে। (আল্‌ মা‘য়ারিজ-১১-১৪)
সূরা আল্‌-মু‘মিনুনে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয় থাকবেনা এমন কি পরস্পর দেখা হলেও (কেউ কাউকে) জিজ্ঞেস করবে না। (আল্‌ মু‘ মিনুন-১০১)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মেরে মেরে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তাদেরকে বলা হবে যে, এই সে আগুন যাকে তোমরা ভিত্তিহীন গুজব মনে করেছিলে। এবার বলো, এটা কি যাদু? না তোমারা কিছুই দেখোনা? এবার যাও এর মধ্যে ভস্ম হ’তে থাকো। এখন তোমরা ধৈর্য ধারণ করো বা না করো সবই তোমাদের জন্য সমান। তোমাদের সে রকম প্রতিফলই দেয়া হচ্ছে যা তোমরা আমল করেছো । (সূরা তুর-১৩-১৬)
সূরা হাদীদের ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,

(যখন ফেরেশতাগণ জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, তখন বলবে) আজ তোমাদের নিকট হ’তে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং যারা পৃথিবীতে (প্রকাশ্য দাম্ভিকতার সাথে আল্লাহর আয়াত গুলো) অস্বীকার করেছিলো, (তাদেরকেও বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেয়া হবে না) তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সে জাহান্নামই তোমাদের খোঁজ খবর গ্রহণকারী অভিভাবক। কতো নিকৃষ্ট পরিণতি। (সূরা হাদীদ-১৫)

জান্নাত, হুর ও জান্নাতের অন্যান্য নেয়ামতসমূহ । দুনিয়ার জীবন অপেক্ষা বেহেশ্তের জীবন উত্তম নয় কি ?


Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post