আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ ١٨٥﴾ [سورة البقرة : 185]“আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না”। [সূরা বাকারা: (১৮৫)]
অসুস্থতা দু’প্রকার:
এক. যদি অসুস্থতা এমন হয় যে, যা থেকে সুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই যেমন ক্যান্সার, তাহলে এরূপ রোগীর উপর সওম জরুরী নয়। কারণ তার ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক যে, সে কখনো সওম পালনে সক্ষম হবে না, তাই সে প্রত্যেক সওমের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দেবে। সওমের সংখ্যানুপাতে মিসকিনদের জমা করে দুপুর অথবা রাতের খাবার দেবে, যেমন আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বার্ধক্যে করতেন। অথবা সওমের সংখ্যা হিসেবে মিসকিনদের পৃথক পৃথক খাদ্য দেবে। প্রত্যেক মিসকিনকে হাফ কিলু দশ গ্রাম গম/চাল দেবে। এর সাথে তরকারী হিসেবে গোস্ত অথবা তেল দেয়া ভাল। সওম পালনে বৃদ্ধ অক্ষম ব্যক্তিও অনুরূপ করবে।
দুই. সাময়িক অসুস্থতা, যা থেকে আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা বেশী যেমন জ্বর ও অনুরূপ অসুস্থতা। এর তিন অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: সওম যদি তার জন্য ক্ষতিকর ও কষ্টকর না হয়, তাহলে তার উপর সওম ওয়াজিব, যেহেতু তার কোন ওজর নেই।
দ্বিতীয় অবস্থা: সওম তার জন্য কষ্টকর, কিন্তু ক্ষতিকর নয়, এমতাবস্থায় তার জন্য সওম মাকরুহ, কারণ এতে আল্লাহর রোখসত ত্যাগ করে নিজের উপর কষ্টের বোঝা চাপানো বৈ কিছু নয়।
তৃতীয় অবস্থা: সওম যদি ক্ষতিকর হয়, তাহলে তার জন্য সওম হারাম। কারণ এর ফলে নিজের উপর বিপদ ডেকে আনা বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمٗا ٢٩﴾ [سورة النساء: 29]
“আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু”। সূরা নিসা: (২৯)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
﴿وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ ١٩٥﴾ [سورة البقرة: 195]
“এবং নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না”। সূরা বাকারা: (১৯৫)
হাদিসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لا ضَرَرَ ولا ضِرَارَ»
“ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না, এবং ক্ষতিগ্রস্ত করাও যাবে না”।
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: এ হাদিসের কয়েকটি সনদ রয়েছে, যার একটি অপরটি দ্বারা শক্তিশালী হয়।
রোগীর উপর সওম ক্ষতিকর কি-না তা রোগীর অনুভূতি অথবা নির্ভর যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শ থেকে বুঝা যাবে। এ অবস্থায় যদি রোগী সওম ভঙ্গ করে, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অনুরূপ সংখ্যা ক্বাযা করবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার পূর্বে মারা যায়, তাহলে মৃত্যুর কারণে তার থেকে সওম মওকুফ হয়ে যাবে। কারণ তার উপর পরবর্তীতে। যে দিনে সওম ফরয ছিল, সে দিনগুলো সে পায়নি।