নামাজে মনোযোগী হহওয়ার উপাই।


নামাজ বা সালাহ, যাই বলি, আমরা তা পড়ি এক আল্লাহ্‌ কে খুশি করার ইচ্ছায়। আর তা যত টুকু মনোযোগ দিয়ে সুন্দর করে পড়া যাবে, তা ততই গ্রহণ যোগ্য হবে, আমরা রাসুলের সাহাবাদের একান্ত মনোযোগের সাথে নামাজ পড়ার কাহিনী শুনি জানি, তারা নামাজ পরে যেন নতুন প্রান শক্তি ফিরে পেত। তাঁরা প্রচণ্ড মজা পেত নামাজ পড়তে। কিন্তু আমরা কি পাই??
মনে হয় না, আমাদের বিশেষত বাঙ্গালীদের গড় পড়তা নামাজ, কোন সুখ নেই যেন, কেমন যেন শূন্য শূন্য। প্রয়াসী আমরা নামাজে তো দাড়িয়ে থাকি ঠিকি মন ঘুরে বেড়ায় রমনায়, কিম্বা শপিং মলে, ব্যবসা কেন্দ্রে, অফিসে, কিম্বা রান্না ঘরে, সংসারের ঝামেলায়।
কৈ গেল আল্লার প্রতি ভালবাসা? কোথায় রি প্রোগ্রামিং হওয়ার সুখ?
পোস্টের শুরুতে একটা দুঃখ জনক কিন্তু সত্যের কাছা কাছি কৌতুক বলি, একদিন তারাবীহ পড়াচ্ছেন ইমাম সাহেব, দলবদ্ধ সকলে ইমামের পিছে দাড়িয়ে তারাবীহ আদায় করছেন, হঠাৎ নামাজ শেষ হল, ইমাম সাহেব মুনাজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, হঠাৎ পিছের থেকে একজন বলে উঠলেন, নামাজে ঝামেলা হয়েছে, ২০ রাকাত শেষ হয় নাই, সবার ভিতরেই মৃদু গুঞ্জন, ইমাম সাহেবো কিছুটা কনফিউজড, হতে ও পারে, ২০ রাকাত নামাজ কমতো না!! তার উপর টর্নেডো গতিতে পড়তে হয়, তবু ঐ লোকের পাল্লাই ভারী দেখা যাচ্ছে, অনেকেরই মনে হচ্ছে, নামাজ ২০ রাকাত ঠিক কায়দায় শেষ হয় নাই, তো যেই লোক প্রথম হাঁক দিয়েছেন, তাকে মসজিদের সামনে বসা মুরুব্বিরা পুছ করলেন, কি মিয়া, তুমি কেমনে বুঝলা কম পড়া হইছে, বা ঝামেলা হইছে???
বিশিষ্ট ভদ্র লোক বললেনঃ দেখেন মুরুব্বি, আমার বাজারে মোট ৯টা দোকান আছে, রমজান উপলক্ষে আমি তারাতারি সব দোকানের টাকা নিয়া আসি, তার পর তারাবীতে দাড়াই। প্রতি দিন ১৮ রাকাত শেষ হইতে না হইতে ৯ দোকানের হিসাব শেষ হয়ে যায় মাথায়, আর বাকি ২ রাকাতে বাসার হিসাব ফাইনাল হয়ে যায়, বিতিরের আগেই কমপ্লিট। আজকে আমার ৭ দোকানের হিসাব শেষ হওয়ার আগেই দেহি ইমামে মোনাজাত ধরার সিস্টেম কর্তাছে, তখনি বুঝছি, আইজ নামাজে ইমাম ঝামেলা করছে, বেটা ফাঁকি বাজ!!!!!!!!!!!!!!!
সকল মহাত্তন অতঃপর ইমাম কে কিঞ্চিৎ গাল মন্দ ভৎসনা করিয়া, তাহাকে নিজ কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইবার শু-পরামর্শ দিয়া, এবং ইমামের ফাঁকি ধরিয়া হিসাব করিয়া, অতিরিক্ত ৪ রাকাত তারাবী আদায় করিয়া বুঝিয়া নিয়া, নিজেদের কর্মে মহা আনন্দিত হইয়া ঘরে ফিরিলেন, বোধ করি খুব কম লোকি, গরম ভাত চিবাইতে চিবাইতে, আজকাল কার ইমামদের, নিজ কর্মে অবহেলা ও ফাঁকিবাজি নিয়া হ্ররষালাপ ও কিঞ্চিৎ কটূক্তি করিতে ভুলিলেন না।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এই নামাজের কাহিনীতে, কি ছিল??? আল্লার গুণগান কৈ ছিল? নাকি পূর্ব পুরুষ রা বেদ হইতে সংস্কৃতর মন্ত্র জপ করিত, আমরা বর্তমানে সজাতির পুরান মন্ত্র বাদ দিয়া, কুরান থাকিয়া আরবি মন্ত্র জপ করায় মন দিয়াছি??????????
খারাপ মনে করবেন না, আমি হয়তো রস করতে করতে হঠাৎ কষের কথা বলে ফেললাম, কিন্তু খুব কি ভুল বলেছি??
যাক, আজকের পোস্টটি লেখা মূলত, আমার মত যারা আরবি না বুঝা বোকা মুসলিম, তাদের জন্য। আমরা যেন কিছু ছোট ছোট জিনিস বা টিপসের মাধ্যমে নিজেদের নামাজের ভিতর প্রান প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেই জন্যই এই পোস্ট।
আরবি বুঝি না, কিন্তু জানি কি কখন উচ্চারন করতে হয়, আসুন আমরা নিয়মিত যা উচ্চারন করে চলেছি, তার সহজ মানে গুলো জেনে নেই, তাহলে যখন উচ্চারন করব, তখন মনের ভিতর থেকে করতে পারব, বুঝতে পারব, কি বলছি।
আল্লাহু আকবার= আল্লাহ্‌ সর্ব মহান।
ছানা= হে আল্লাহ্‌!!! তুমি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র। আমরা সর্বদা তোমার প্রশংসা করি। তোমার নামের বরকত অনেক বেশী এবং তোমার সম্মান ও মর্যাদা অনেক উঁচু। তুমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই।
আমিন= কবুল কর।
সোবহানা রাব্বিয়াল আজিম= আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
সামি আল্লাহ হুলিমান হামিদা= আল্লাহ্‌! সেই ব্যক্তির কথা কবুল করেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।
রাব্বানা লাকাল হামদ= হে আমাদের রব! তোমার জন্য সকল প্রশংসা।
সোবহানা রাব্বিয়াল আলা= আমি আমার সর্বশ্রেষ্ঠ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
দুই সিজদার মাঝে পড়তে পারেন,
রাব্বিগফিরলি-ইগফিরলি= হে আল্লাহ্‌। আমাকে মাফ কর, মাফ কর।

আত্যাহিয়্যাতুঃ
আল্লাহর জন্য সালাম, শান্তি স্থায়িত্ব। তিনি দোয়ায় ব্যবহৃত সকল সম্মান জনক সম্বোধনের উপযুক্ত এবং সকল পবিত্রতা তাঁরই জন্য। হে নাবী! আপনার উপর শান্তি এবং আল্লার রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের উপর ও সকল নেক লোকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্‌ ছাড়া মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

দরুদে ইব্রাহিমঃ
যে আললাহ! মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর ঐরূপ আশীর্বাদ অবতীর্ণ কর যেইরূপ আর্শীবাদ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর অবতীর্ণ করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম। হে আললাহ! মুহাম্মদ (সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাললাম) এবং তাঁহার বংশধরগণের উপর সেইরূপ অনুগ্রহ কর যে রূপ অনুগ্রহ ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁহার বংশরগণের উপর করিয়াছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।

দোয়া মাসুরাঃ
অর্থঃ হে আল্লাহ্‌! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র তুমিই; অতএব তুমি আপনা হইতে আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়ালু

Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post