সফরকালীন ফরয নামায ব্যতীত অন্যান্য নামাযের হুকুম কি??
===============================সুন্নাতে মুয়াক্কাদা সমুহের ক্ষেত্রে
-------------------------------------সফরে ফজরের ২ রাকাত সুন্নাত, জোহরের ৪+২ রাকাত সুন্নাত, মাগরিবের ২ রাকাত সুন্নাত, এবং এশার ২ রাকাত সুন্নাত এসকল মুয়াক্কাদা সমূহ সফরকালীন আদায় করা বা না করা উভয়টির ব্যাপারেই অনুমতি আছে।।
(১) তাবেঈ হাফস বিন আসেম (রহঃ)বলেন-
আমি মক্কার সফরে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) এর সাথে ছিলাম।। তিনি জোহরের (ফরয) নামায ২ রাকাত পড়ালেন, এরপর দেখলেন কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে।। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন- "এরা কি করছে?? "
আমি বললাম- "এরা সুন্নাত পড়ছে।।"
তিনি বললেন- "যদি সফরে (ফরযের) অতিরিক্ত কিছু পড়তেই পারতাম, তাহলে তো ফরয-ই পুরো পড়তাম।। আমি সফরে রাসূল(সঃ) এর সঙ্গী ছিলাম এবং দেখেছি তিনি সফরে ২ রাকাতের অধিক অন্য কোন নামায পড়তেন না।। আর আমি আবু বকর (রা), উমর (রা) ও উসমান (রা) এর সফর সঙ্গী-ও ছিলাম, তারা-ও ২ রাকাতের বেশী পড়তেন না।।"
[বোখারী ও মুসলিম]
মিশকাত; হাদিস নং- ১২৫৬।।
(২) তাবেঈ নাফে (রহঃ) বর্ণনা করেন- তার উস্তাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) তার পুত্রকে সফরে অতিরিক্ত নামায (সুন্নাত ও নফল) আদায় করতে দেখতেন কিন্তু বাঁধা দিতেন না।।
[মুয়াত্ত্বা এ মালেক]
মিশকাত; হাদিস নং- ১২৭১।।
(৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে সফরে জোহরের (ফরয) নামায ২ রাকাত পড়েছি, তারপর আরো ২ রাকাত (সুন্নাত) পড়েছি।।
[তিরমিযী]
মিশকাত; হাদিস নং- ১২৬১।।
ঈমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন হাদিসটি হাসান।।
উপরোক্ত হাদিসগুলোতে দেখা যায়, সফরে সুন্নাত মুয়াক্কাদাহ নামায সমূহ আদায়ের পক্ষে বিপক্ষে উভয়প্রকারের মত-ই রয়েছে।। ১ম হাদিসে দেখা যায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না পড়ার পক্ষে দলিল।। ২য় এবং ৩য় হাদিসে পড়ার অনুমতি সংক্রান্ত দলিল পাওয়া যায়।।
অর্থাৎ, জোহরে ৪+২, মাগরিবে ২ এবং এশায় ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়া এবং না পড়া উভয়টির পক্ষেই দলিল আছে।।
ক. এমতাবস্থায় ঈমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন- "একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবার মতে সফরেও ফরযের অতিরিক্ত অন্যান্য নামায আদায় করা যেতে পারে।। আবার আরেকদলের মতে ফরয ছাড়া অতিরিক্ত কোন সুন্নাত নফল আদায় করা যাবে না।। তবে বেশীরভাগ বিদ্বানের মতে সফরে সুযোগ থাকলে কেউ সুন্নাত ও নফল আদায় করলে সে ফযীলাত লাভ করল আর যে আদায় করল না সে অব্যাহতির সুযোগ গ্রহণ করল।।"
[জামে তিরমিযী- ৫১৮ নং হাদিসের পরবর্তী আলোচনা]
খ. আল্লামা নববী (রহঃ) বলেন- "ঈমাম শাফিঈ (রহঃ) সহ জমহুর উলামায়ে কেরামের মত হল সফরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা সমূহ মুস্তাহাব হিসেবে আদায় করা যায়।।"
[শরহে মুসলিম- ১/২৪২]
গ. হানাফী ফক্বীহগনের ঐক্যমত্য হল- "সুন্নাতে মুয়াক্কাদা সমূহ ছেড়ে দেয়াতে কোন অসুবিধা নাই, তবে সুযোগ থাকলে আদায় করাতে ফযীলাত রয়েছে।।"
[ইলা উস সুনান- ৭/২৮৯]
**আরো উল্লেখ্য: ফজরের ২ রাকাত সুন্নাত নামায রাসূলুল্লাহ (সঃ) সফরেও কখনোই ছেড়ে দিতেন না।। তাই এ ২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায়-ও আবশ্যক।।
[যা'দুল মা'আদ- ১/৩১৫ এবং ১/৪৭৩]
এমনকি হযরত আবু ক্বতাদাহ (রা) হতে বর্ণিত আছে এক যুদ্ধের সফরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর ও সাহাবীদের ঘুমের জন্য ফজরের নামায ক্বাযা হয়েছিল।। ঘুম ভাঙ্গার পর তারা সুন্নাত সহ ফরয নামায আদায় করেন।। এজন্য ফজরের সুন্নাত নামায সফরেও ত্যাগ করা উচিৎ নয়।।
[দ্রষ্টব্য: আবু দাউদ- ৪৩৭, হাদিসটি সহিহ মুসলিমেও বর্ণিত আছে]
বিতরের নামাযের ক্ষেত্রে
---------------------------
হযরত ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সফরে বিতরের নামায আদায় করতেন।।
[বোখারী ও মুসলিম; মিশকাত- ১২৫৮]
তাহাজ্জুদ, দ্বোহা সহ অন্যান্য নফল নামায
------------------------------------------------
ঈমাম নববী (রহঃ) উল্লেখ করেন- "সফরে ইশরাক-দ্বোহা-তাহাজ্জুদ ইত্যাদি পড়া জায়েয।।"
[শরহে মুসলিম- ১/২৪২]
সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সফর অবস্থায় তাহাজ্জুদের নামায এবং দ্বোহা-ইশরাকের নামায আদায় করেছেন।।
[বোখারী -১০৪০, ১০৪১, ১০৪৩ ইত্যাদি]
উপসংহার
------------
সুতরাং আলোচনা থেকে বোঝা যায় সফরকালীন ফযীলাতের আশায় এবং সুযোগ থাকলে ওয়াক্তের সুন্নাতে মুয়াক্কাদা সমূহ আদায় করা যায়, তবে ফজরের ২ রাকাত সুন্নাত এবং বিতরের নামায আদায় করতেই হবে।।
তাহাজ্জুদ, ইশরাক- দ্বোহা এগুলো আদায় করার সুযোগ রয়েছে।।
আল্লাহ উত্তম জানেন।।
