সবসময় আমল করা যায় এমন কিছু যিকর নিম্নরূপ :

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ বাক্য চারটি।سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহর জন্য প্রশংসা, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই ও আল্লাহ সর্বাপেক্ষা মহান’। এই বাক্যগুলোর যেকোন একটি দিয়ে শুরু করা যায়, তাতে কোন সমস্যা নেই’।[10]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ সুবহা-নাল্লাহ, ওয়াল হাম্দুলিল্লা-হি, ওয়া লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লাহু আকবার’ বলা আমার নিকট পৃথিবী অপেক্ষা অধিক প্রিয়’।[11]

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ. فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ ‘যে ব্যক্তি দৈনিক একশত বার বলবে, ‘সুবহা-নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে) তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়’।[12]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,كَلِمَتَانِ خَفِيْفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيْلَتَانِ فِى الْمِيْزَانِ، حَبِيْبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ ‘দু’টি বাক্য যা বলতে সহজ, মীযানের পাল্লায় ভারী এবং আল্লাহর নিকট প্রিয়, তা হচ্ছে سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ ‘সুবহা-নাল্লাহি, ওয়া বিহাম্দিহি, ওয়া সুবহা-নাল্লাহিল আযীম’ (প্রশংসার সাথে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি, পবিত্রতা বর্ণনা করি আল্লাহর, যিনি মহান)।[13]

সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, আমরা একদিন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বলেন, তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাযার নেকী উপার্জন করতে সক্ষম? এক ছাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, কেমন করে আমাদের কেউ (দৈনিক) এক হাযার নেকী উপার্জন করতে পারবে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, সে প্রতিদিন একশত বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এতে তার জন্য (একবারের জন্য দশ নেকী) এক হাযার নেকী লেখা হবে এবং এক হাযার গুনাহ মাফ করা হবে’।[14]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক একশত বার বলবে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান’, ঐ ব্যক্তির দশটি গোলাম আযাদ করার সমান ছওয়াব হবে, তার জন্য একশত নেকী লেখা হবে, একশত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। এটি তার ঐ দিনের জন্য শয়তান থেকে রক্ষাকবচ হবে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। আর সে যা করেছে তার চেয়ে উত্তম আর কেউ করতে পারবে না ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে তার চেয়ে বেশী এ আমল করবে’।[16]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে বলেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভান্ডার সমূহের একটি ভান্ডারের সন্ধান দিব না? তিনি বলেন, নিশ্চয়ই! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তা হ’ল, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ ‘আল্লাহ ব্যতীত আমার কোন উপায় নেই, কোন শক্তি নেই’।[17]

রাসূল (ছাঃ) বলেন,مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ وَبِحَمْدِهِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِى الْجَنَّةِ ‘যে ব্যক্তি বলবে ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহি’ তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হবে।[18] তিনি আরো বলেন,أَفْضَلُ الذِّكْرِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ الْحَمْدُ لِلَّهِ ‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আর সর্বশ্রেষ্ঠ দো‘আ হল ‘আল হামদুলিল্লাহ’।[19]


Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post