টেলিফোনে বা মোবাইলে হরদম বিবাহের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলে মেয়ের মধ্যে টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ সম্পাদন করে বাবা মা বা অভিভাবকগণ তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। কিন্তু বিবাহ শাদি একটি পবিত্র বন্ধন যা ধর্ম ও সমাজ শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে। তাই বিবাহকে পুতুল খেলার মত করে না দেখে ইসলাম ধর্মের মৌলিক ভিত্তিতে দেখা উচিত। ইদানিং অনেক মুফতী সাহেবগণ নাকি তাওকীলের সুরত ছাড়াই সরাসরি ফোনে বিবাহ জায়ে বলছেন। এ ব্যপারে দলীলসহ সঠিক মাসআলাটি কি?


বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। আর শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে টেলিফোনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ করা জায়েজ নয়। (ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫) 

টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ করার পদ্ধতি :-

উভয় পক্ষ থেকে এক পক্ষ অপরপক্ষ যেখানে থাকে সেখানের কোন ব্যক্তিকে ওকীল বানাবে। তারপর সে ওকীল দু’জন সাক্ষীর সামনে বিবাহ করিয়ে দিবে। তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া সরাসরি মোবাইলে বা টেলিফোনে প্রস্তাব ও কবুল করার দ্বারা বিবাহ সহীহ হবে না।
فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)
অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। (আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮)

Share this Post :
Related Posts
Previous
« Prev Post